অনলাইন ডেস্ক
২৮ জানুয়ারি ২০২২, ৪:৫৩ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

মহামারির বিধি-নিষেধে ক্লান্ত, সিঙ্গাপুর ছাড়ছেন প্রবাসীরা

কোলাহলপূর্ণ বৈশ্বিক নগরীতে বসবাসের সুযোগ পেয়ে ২০১৯ সালে সিঙ্গাপুরে এসেছিলেন আতার স্যান্ডলার। এশিয়ার অন্যতম এই বাণিজ্যিক নগরী থেকে বিশ্বের অন্যান্য স্থানে সহজেই যাওয়া যায়।
করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলায় দুই বছর ধরে মাস্ক পরে থাকা, ছোট ছোট দলে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা এবং ভ্রমণ বিধি-নিষেধে ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত হয়ে ইসরায়েলি মানবসম্পদ এই কর্মকর্তা চলতি মাসে স্বামী ও সন্তানকে নিয়ে নিউইয়র্কে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্যান্ডলার বলেন, ‘এটা অনেক দিন ধরেই চলছে এবং এখানে কিছু পরিবর্তন হবে বলে মনে হয় না। জীবন এখানে অত্যন্ত, অত্যন্ত সহজ। (কিন্তু) পরিবার ও বন্ধুবান্ধবহীন, ভ্রমণের সুযোগ বিহীন এমন জীবনযাপনের কী মূল্য আছে?’
ঝুঁকি নিতে অনিচ্ছুক সিঙ্গাপুর কোভিড-১৯ মহামারিকে সঙ্গী করে জীবনযাপনের পদ্ধতিতে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। পুঁজি ও প্রতিভার কেন্দ্র হিসেবে খ্যাতি ধরে রাখতে অর্থনীতি ও সীমান্ত পুনরায় খুলে দেওয়ার সময় ঘনবসতিপূর্ণ এই দ্বীপ রাষ্ট্রের মানুষকে করোনা থেকে রক্ষার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
জীবন-যাপনের উচ্চমান, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, মানসম্মত কর্মস্থল, সহজ ভ্রমণ এবং কম কর হারের কারণে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ গন্তব্য হিসেবে মনে করা হয় সিঙ্গাপুরকে। যে কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোম্পানি এবং প্রবাসী পেশাজীবীরা ব্যবসা-বান্ধব এই দেশটির প্রতি আকৃষ্ট হন।
কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারি দেশটিতে বসবাসরত অপেক্ষাকৃত অনেক সম্পদশালী প্রবাসীদের আত্ম-উপলব্ধিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। দেশটির মোট ৫৫ লাখ জনসংখ্যার প্রায় এক পঞ্চমাংশই বিদেশি।
কেউ কেউ নিজ দেশে ফিরে অধিকতর স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুবিধাকে সিঙ্গাপুরের বিধি-নিষেধের সঙ্গে তুলনা অথবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার জন্য অবাধে ভ্রমণ করতে না পারার কথা বলছেন। তবে স্যান্ডলারের অভিজ্ঞতা আরও খারাপ। কারণ করোনা মহামারির মাঝের দিকে মেয়ের জন্ম দিয়েছেন তিনি। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা সেই সন্তানের সাথে গত এক বছর ধরে দেখা করতে পারেননি।
মহামারির সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নতুন নতুন বিনিয়োগ এবং দক্ষ মেধাবীদের অব্যাহতভাবে আকৃষ্ট করেছে সিঙ্গাপুর। কিন্তু মহামারিতে বিদেশিদের সংখ্যা কমে যাওয়ায় দেশটির জনসংখ্যা ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে বেশি কমেছে।
গত বছরের জুন পর্যন্ত দেশটিতে বিদেশিদের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশ। আর সিঙ্গাপুর ছাড়ার এই হারে বেশি ভূমিকা রেখেছেন দেশটির নির্মাণ ও সামুদ্রিক পরিষেবার সাথে যুক্ত স্বল্প মজুরির প্রবাসী শ্রমিকরা।
এমনকি সিঙ্গাপুরে কাজের পাস রয়েছে এমন মানুষ অথবা মাসিক ৩ হাজার ৩৫০ ডলার উপার্জনকারী পেশাদারদের সংখ্যা ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭০০ থেকে প্রায় ১৪ শতাংশ কমে গত বছরের জুনে এক লাখ ৬৬ হাজার ৯০০ জনে দাঁড়িয়েছে।
প্রবাস জীবন প্রকৃতিগতভাবেই অস্থায়ী। কারণ কোম্পানি ব্যয় এবং চাকরি কাটছাঁট করায় অনেক সময় প্রবাসীদের নিজ দেশে ফিরতে হয়। বিদেশি কর্মী চলে যাওয়ায় সীমান্ত বিধিনিষেধের কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে বিদেশ থেকে কর্মীও আনতে পারে না।
কিন্তু এক দশক ধরে নগর রাষ্ট্রে কাজ করে আসা ফিলিপাইনের নাগরিক স্যান্তোস এবং তার ব্রিটিশ স্বামীকে করোনা মহামারি সিঙ্গাপুর থেকে চলে যেতে বাধ্য করেছে। ছোট এই নগররাষ্ট্রে গ্রামীণ কোনো এলাকা নেই। যে কারণে সন্তানদের নিয়ে দেশে ফিরেছেন তারা। বলেন, ‌‘আমরা এই ধরনের জীবনযাত্রা আর চাই না।’
২০১৯ সালে হংকং থেকে সিঙ্গাপুরে পাড়ি জমিয়েছিলেন ক্রিস অ্যান্ডারসন। গত বছর হংকংয়ে ফেরার পর নিয়মের বেড়াজালে আটকা পড়েছেন তিনি। বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও নগররাষ্ট্র সিঙ্গাপুরে বিদেশিদের ফেরার অনুমতি না থাকায় তিনি এখন বিকল্প চিন্তা করছেন। যুক্তরাষ্ট্রের একটি স্টার্টআপে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
অ্যান্ডারসন বলেন, ‘আপনি দেশটি ছাড়তে পারবেন। কিন্তু ফিরে আসার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবেন না… যা আপনার মনে সবসময় আঘাত করবে।’

সূত্র: রয়টার্স।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ভবন নির্মাণে বাধা নেই, রিট খারিজ।

নেত্রকোনা শহীদ মিনারের প্রবেশপথে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, নির্মিত হবে নান্দনিক গেট

দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে লংগাইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল হামিদ শেখের সমর্থনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

কলমাকান্দায় প্রস্তাবিত জোড়া সেতুর স্থান পরিদর্শনে প্রকল্প পরিচালক: দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস

দক্ষিণ গফরগাঁওয়ে লংগাইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল হামিদ শেখের সমর্থনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

নিতীমালা ভাঙ্গায় পানছড়ি প্রতিনিধিকে বহিষ্কার, বিভ্রান্তিকর পোস্টের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন ‎

ধান সংগ্রহে জালিয়াতি: নেত্রকোনায় এলএসডি কর্মকর্তা বরখাস্ত, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বদলি

শিক্ষক উমর শরীফের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত চলমান।

বারহাট্টায় গভীর রাতে ওষুধের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি

উন্নয়ন কাজে গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের মানুষের কাছে অবহেলা দূর হচ্ছে : আখতারুজ্জামান বাচ্চু এমপি

১০

খালিয়াজুরীতে হাওড়ের পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু

১১

র‌্যাব-১৫ ও র‌্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে চাঞ্চল্যকর হ*ত্যা মা*ম*লা*র  ১নং আসামি গ্রেপ্তার

১২

দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা বাস্তবায়ন ও সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড তুলে ধরতে মশাখালীতে বিশাল জনসভা।

১৩

ময়মনসিংহে ট্রাক-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১

১৪

গফরগাঁওয়ে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত: আফসানা মিমির নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও সমাবেশ

১৫

মানবতার সেবায় ‘একতাবন্ধন সোসাইটি’র পথচলা: নির্বাহী পরিচালক পদে মো: নাজিম উদ্দিন

১৬

১নং কাইটাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কামরুল হাসান টিটু, এলাকাবাসীর দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশী। ‎

১৭

টেকনাফে ৪২ কোটি টাকার ইয়াবার চালান জব্দ, আটক ২

১৮

পথচারী ও সুবিধাবঞ্চিতদের মুখে বিনামূল্যে খাবার তুলে দিচ্ছে মাস্তুল ফাউন্ডেশন।

১৯

মদনে মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলের হাতে বৃদ্ধ বাবা খুন

২০
শিরোনামঃ
দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা ভবন নির্মাণে বাধা নেই, রিট খারিজ।নেত্রকোনা শহীদ মিনারের প্রবেশপথে অবৈধ দোকান উচ্ছেদ, নির্মিত হবে নান্দনিক গেটদক্ষিণ গফরগাঁওয়ে লংগাইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল হামিদ শেখের সমর্থনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতকলমাকান্দায় প্রস্তাবিত জোড়া সেতুর স্থান পরিদর্শনে প্রকল্প পরিচালক: দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাসদক্ষিণ গফরগাঁওয়ে লংগাইর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুল হামিদ শেখের সমর্থনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিতনিতীমালা ভাঙ্গায় পানছড়ি প্রতিনিধিকে বহিষ্কার, বিভ্রান্তিকর পোস্টের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন ‎ধান সংগ্রহে জালিয়াতি: নেত্রকোনায় এলএসডি কর্মকর্তা বরখাস্ত, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বদলিশিক্ষক উমর শরীফের বিরুদ্ধে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত চলমান।বারহাট্টায় গভীর রাতে ওষুধের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরিউন্নয়ন কাজে গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের মানুষের কাছে অবহেলা দূর হচ্ছে : আখতারুজ্জামান বাচ্চু এমপি