মোঃ নোমান খান
নিউজ সংবাদদাতা
ইস্তাম্বুল, তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে গঠিত কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটির প্রথম বৈঠক সোমবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত হবে।
চলতি মাসের শুরুতে মক্কায় স্বাক্ষরিত এই ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নের কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণের জন্য এই উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে তিন দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এবং সেনাপ্রধানরা একত্রিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন দেশের মধ্যে কার্যক্রম ও সহযোগিতার জন্য কৌশলগত দিকনির্দেশনা প্রদানের লক্ষ্যে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সোমবারের বৈঠকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা এবং সৌদি, তুর্কি ও পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার ও আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধির পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কর্মকর্তারা যৌথ উৎপাদন ও গবেষণা ও উন্নয়নসহ প্রতিরক্ষা শিল্প সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এই বৈঠকে কমিটি কর্তৃক চিহ্নিত যৌথ কার্যক্রমের ক্ষেত্রগুলো সমন্বয়ের জন্য একটি সচিবালয় এবং অন্যান্য ব্যবস্থার কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অংশগ্রহণকারীরা আগামী সময়ে চুক্তিটি বাস্তবায়ন এবং ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।
আশা করা হচ্ছে, এই বৈঠকটি একটি সহযোগিতামূলক নিরাপত্তা কাঠামোর মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, শান্তি ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে চুক্তিটির ভূমিকার ওপর জোর দেবে এবং একই সাথে আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মানকারী ও শান্তিপূর্ণ সহযোগিতার দৃষ্টিভঙ্গির অংশীদার দেশগুলোর জন্য এটি উন্মুক্ত থাকবে।
৭ই আগস্ট মক্কায় যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের রাষ্ট্রপতি রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এই চুক্তির মূল ভিত্তি হলো একটি যৌথ প্রতিরক্ষা বিধান, যেখানে বলা হয়েছে যে তিনটি দেশের যেকোনো একটির ওপর আক্রমণ হলে তা সকলের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে।
মন্তব্য করুন