
মোঃ সুজন মাহমুদ
নিজস্ব সংবাদদাতা
আলমডাঙ্গার ডেকোরেশন মিস্ত্রি মিজানুর রহমান চিকিৎসার অভাবে হতাশার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার এরশাদপুর গ্রামের এক অসহায় পরিবারের আর্তনাদ এখন সবার হৃদয়ে নাড়া দেওয়ার মতো। জীবিকার তাগিদে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করে সংসার চালানো এক শ্রমজীবী মানুষ আজ জীবনের কঠিন লড়াইয়ে সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে পড়েছেন।
তিন সন্তানের জনক মোঃ মিজানুর রহমান—পেশায় একজন ডেকোরেশন মিস্ত্রি। প্রতিদিনের উপার্জনেই চলত তার ছোট্ট সংসার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে হঠাৎ এক দুর্ঘটনা তার জীবনের সবকিছু থামিয়ে দিয়েছে। এখন তিনি শয্যাশায়ী, বিনা চিকিৎসায় অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে আলমডাঙ্গা আনন্দ ধামে একটি সজনে গাছে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত গাছ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন মিজানুর রহমান। এতে তার কোমর (মাজা) ভেঙে যায়—যা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।
পরবর্তীতে শনিবার (৪ এপ্রিল) কুষ্টিয়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এমআরআই পরীক্ষার মাধ্যমে তার আঘাতের গুরুতর অবস্থা ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাকে দ্রুত একটি বড় ধরনের অপারেশন করাতে হবে। কিন্তু এই অপারেশনের জন্য প্রয়োজন বিপুল পরিমাণ অর্থ—যা তার অসচ্ছল পরিবারের পক্ষে বহন করা একেবারেই অসম্ভব।
মিজানুর রহমানই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার এই দুর্ঘটনায় থেমে গেছে আয়ের একমাত্র পথ। দিনমজুরির টাকায় চলা সংসার এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা।
তার স্ত্রী স্বামীর শয্যার পাশে বসে অসহায়ের মতো অপেক্ষা করছেন—কখন কেউ এগিয়ে আসবে, কখন তার স্বামীর চিকিৎসার ব্যবস্থা হবে। চোখের পানি যেন থামছেই না। তিনটি ছোট সন্তান, মেয়েসহ পরিবারের সবাই আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।
বোন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা জানালেন—মিজানুর একজন অত্যন্ত ভালো মানুষ। তিনি প্রতিদিনের কষ্টার্জিত আয়ে সংসার চালাতেন, কারো কাছে হাত পাততে হয়নি কখনো। কিন্তু আজ তিনি নিজেই সবার কাছে সাহায্যের আবেদন হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
একজন প্রতিবেশী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“মিজানুর খুব ভালো মানুষ। নিজের কষ্টের টাকায় সংসার চালাত। আজ তার এমন অবস্থা—আমরা সহ্য করতে পারছি না। আপনারা একটু সাহায্য করেন, মানুষটাকে বাঁচান।”
দারিদ্র্যের ধোঁয়াশার মাঝেই এখন তাদের জীবন। একমাত্র আশা—মানুষের সহানুভূতি। কেউ যদি এগিয়ে আসে, তাহলে হয়তো আবার সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন মিজানুর রহমান, আবার হাসি ফিরতে পারে তার ছোট্ট পরিবারে।
এমতাবস্থায়, মিজানুর রহমানের পরিবার দেশ-বিদেশের সকল হৃদয়বান ও সহানুভূতিশীল মানুষের কাছে আর্থিক সহযোগিতার জন্য আকুল আবেদন জানিয়েছে।
আপনার সামান্য সহায়তাই হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবন, বাঁচাতে পারে একটি পরিবারকে চরম দুর্দশা থেকে।
সাহায্যের জন্য যোগাযোগ (বিকাশ):
01775778533
01941-761820
আসুন, মানবতার হাত বাড়াই।
একটু সহানুভূতি, একটু সহযোগিতা—এই কঠিন সময়ে হতে পারে একটি পরিবারের বেঁচে থাকার শেষ ভরসা।
মন্তব্য করুন