মোঃ খাইরুল ইসলাম স্টাফ রিপোর্টার গাজীপুর
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে পরিবহন শ্রমিকের প্রাণের দাবি পূরণ হলো। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, অবহেলা আর না পাওয়ার বেদনায় কাতরানো শ্রমিকদের মুখে হাসি ফুটলো। বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর সরাসরি নির্দেশে মহাসড়কে যানজট নিরসনে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে সফলতা দেখানোয় পুরস্কৃত হলেন শ্রমিক নেতা হুমায়ুন কবির খান।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন রেজি নং- ১৭২৪ এর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ূন কবির খান তার কাজে প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করায়, তার ধারাবাহিক সফলতার পরিপ্রেক্ষিতে ১৭/১০/২০২৬ ইং তারিখে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তাকে পরিপূর্ণভাবে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।
ঢাকার জাতীয় শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে শনিবারে অনুষ্ঠিত ওই ঐতিহাসিক বিশেষ সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু। সঞ্চালনায় ছিলেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ূন কবির খান, সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় বিএনপি। সভায় সারাদেশের জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের সকল বেসিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতেই কোরআন তেলাওয়াত ও দেশের জন্য দোয়ার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়।
বাংলাদেশের পরিবহন শ্রমিকরা আজ বড় অসহায়। তাদের নেই কোন নিয়োগপত্র, নেই পরিচয়পত্র, নেই ৮ ঘণ্টার বেশি কাজের ওভারটাইম, নেই বিশ্রামাগার। একটি দুর্ঘটনা হলে তাদের জীবন শেষ। সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ এর কালো ধারায় জামিন অযোগ্য মামলায় জেলে পচে মরেন তারা। তাদের পরিবার না খেয়ে থাকে, সন্তানের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়, স্ত্রীর চোখে জল শুকায় না। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ১৪-১৬ ঘণ্টা স্টিয়ারিং ধরে রাখা এই মানুষগুলোই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন, অথচ তারাই সবচেয়ে বঞ্চিত।
এই কান্না, এই দুঃখ-দুর্দশা বুঝেছিলেন হুমায়ুন কবির খান। তাই তো তিনি বারবার বলেছেন শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি দাও।
নির্বাচিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আবেগঘন কণ্ঠে হুমায়ুন কবির খান বলেন
আমি আজ কোনো দলের নেতা হিসেবে নয়, ৭০ লাখ পরিবহন শ্রমিকের খাদেম হিসেবে শপথ নিলাম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে বলেছিলেন -হুমায়ুন, মহাসড়কে যানজটে মানুষ কষ্ট পায়, এটা তোমাকে মুক্ত করতে হবে।’ আমি তার নির্দেশে দিনরাত পরিশ্রম করে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-উত্তরবঙ্গ, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক যানজট মুক্ত করেছি। আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দিয়েছেন, আমি জীবন দিয়ে তা রক্ষা করবো। দল যার যার, পরিবহন শ্রমিক এক কাতার এটাই আমাদের শক্তি।
তিনি আরও বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শ্রমিকদের নিয়োগপত্র, পেনশন ও দুর্ঘটনা বীমা চালু করবোই ইনশাল্লাহ। কোন শ্রমিক আর না খেয়ে মরবে না। এই খবরে গাজীপুরের চন্দ্রা, সফিপুর, কালিয়াকৈর এলাকায় আনন্দের বন্যা বইছে।
চন্দ্রা পরিবহন শ্রমিক নেতা মোঃ লিটন মিয়া (৪৫) বলেন, হুমায়ুন কবির খান ভাই যখন থেকে দায়িত্ব নিয়েছেন, তখন থেকে চন্দ্রা-নবীনগর মহাসড়কে আর আগের মতো ঘণ্টার পর ঘণ্টা জ্যাম থাকে না। তিনি নিজে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি ছাড়েন। এমন নেতাই আমাদের দরকার ছিল। আমরা আগে কাঁদতাম, এখন হাসি।
সফিপুরের ট্রাক চালক আব্দুল জলিল (৩৮) চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, “আগে পুলিশি হয়রানি, চাঁদাবাজি ছিল। হুমায়ুন ভাই আসার পর সেগুলো অনেক কমে গেছে। প্রধানমন্ত্রী সঠিক লোককেই বেছে নিয়েছেন। আমরা গরিব মানুষ, আমাদের দুঃখ কেউ বোঝে না, হুমায়ুন ভাই বোঝেন। আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবক, প্রাণপ্রিয় নেতা, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোঃ হুমায়ুন কবির খান সাহেব বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক থেকে পূর্ণ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ায় পৌর ৫ নং ওয়ার্ড যুবদলের পক্ষ থেকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এই শুভেচ্ছা বার্তায় এলাকার শত শত যুবক আনন্দ মিছিল করেছে।
একই সাথে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন গাজীপুর জেলা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন (চন্দ্রা শাখা) এর সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ আওলাদ হোসেন।
মন্তব্য করুন