মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল, নেত্রকোনা।
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় জমি কেনার প্রায় নয় বছর পার হলেও রেজিস্ট্রি দলিল বুঝে না পাওয়ার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানীর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না হওয়ায় চরম উদ্বেগ ও ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) কলমাকান্দায় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানীর বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন ভুক্তভোগীরা। এ সময় তাঁদের হাতে বিক্রি করা জমির দলিল পাওয়ার দাবিসংবলিত ব্যানার দেখা যায়।
ব্যানারে ভুক্তভোগী হিসেবে মোছা. জহুরা খাতুন ও বর্ষা আক্তারের নাম উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, প্রায় নয় বছর আগে তাঁরা গোলাম রব্বানীর কাছ থেকে জমি কেনেন। জমি কেনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত রেজিস্ট্রি দলিল তাঁদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। প্রয়োজনীয় আইনি কাগজপত্র হাতে না পাওয়ায় তাঁরা জমি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। দলিল পাওয়ার একাধিক তাগিদ দিয়েও সুরাহা না মেলায় বাধ্য হয়ে তাঁরা সাবেক এই সংসদ সদস্যের বাড়িতে অবস্থান কর্মসূচিতে নেমেছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম রব্বানী জানান, জমি হস্তান্তরে কোনো বাধা নেই এবং বর্তমানে তা ক্রেতাদের দখলেই রয়েছে। পারিবারিক জমি বাটোয়ারা ও ভাতিজার সঙ্গে বিরোধের কারণেই মূলত রেজিস্ট্রি দিতে দেরি হচ্ছে।
নিজের ব্যাখ্যায় গোলাম রব্বানী বলেন, “জমিটা প্রথমে আমি বিক্রি করেছি। তবে বাটোয়ারা অনুযায়ী এই জমির মালিক আমার ভাতিজা। এদিকে আমি আমার অংশ থেকে জমি ভাতিজাকে দেওয়ার পরও সে জমি ছাড়ছে না। যার ফলে এই জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।”
সাবেক এমপির দাবি অনুযায়ী, জমির মালিকানা ও দখল ক্রেতাদের কাছে থাকলেও অভ্যন্তরীণ পারিবারিক বাটোয়ারা সংক্রান্ত সমস্যার কারণেই রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে।
এদিকে জমি কেনার নয় বছর পর দলিল না পাওয়ার ক্ষোভ থেকে ভুক্তভোগীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করলেও, ঠিক কতটুকু জমি কত মূল্যে বিক্রি হয়েছিল কিংবা এ বিষয়ে সাবেক এমপির ভাতিজার বক্তব্য কী—তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
মন্তব্য করুন