
ভারতীয় সিনেমা বক্স অফিস আয়ের ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে বিবিসি বাংলা। দেশজুড়ে মোট বক্স অফিস আয় ১৩,৩৯৫ কোটি রুপি ছাড়িয়ে গেছে এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ তা ১৫,০০০ কোটি রুপি অতিক্রম করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। করোনা অতিমারির মন্দা কাটিয়ে হিন্দি চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়ালেও, বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে।
২০২৫ এবং ২০২৬ সালের সর্বোচ্চ আয়কারী হিন্দি চলচ্চিত্রগুলোতে বড় সিক্যুয়েল ও তারকাখচিত অ্যাকশন ফিল্মের আধিপত্য দেখা গেছে। বাণিজ্য বিশ্লেষক তারান আদর্শের মতে, ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ’ বিশ্বব্যাপী ১,৮৪৮ কোটি রুপি, ‘ধুরন্ধর’ ১,৩৫০ কোটি রুপি, ‘চাওয়া’ ৮০৯ কোটি রুপি, ‘সাইয়ারা’ ৫৭৯ কোটি রুপি এবং ‘বর্ডার ২’ ৪৬৪ কোটি রুপি আয় করেছে। এ ছাড়া ‘দৃশ্যম ৩’ ৪৯০ কোটি রুপি এবং ‘হনুমান অংশ’ ৪৩৫ কোটি রুপি আয় করেছে। অন্যদিকে ‘ওয়ার ২’, ‘সিকান্দার’, ‘সন অফ সর্দার ২’, ‘টক্সিক’ এবং ‘পার্টিশন’ ছবিগুলো হতাশ করেছে।
প্রেক্ষাগৃহ পরিচালক রাজ বনসালের মতে, প্রযোজকরা মল ও রেস্তোরাঁয় গিয়ে এবং প্রাইভেট প্লেনে ভ্রমণ করে যে ধরনের বিপণন করছেন তা ভুল। তিনি অভিযোগ করেন, টাকার বিনিময়ে করা রিভিউ এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় নেতিবাচক প্রচার চলচ্চিত্র শিল্পের ক্ষতি করছে। এ ছাড়া ভুল কাস্টিং এবং ভালো চিত্রনাট্য ও সঙ্গীতের অভাবেই অনেক ছবি ব্যর্থ হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। উদাহরণস্বরূপ, ‘পার্টিশন’ ও ‘সন অফ সর্দার ২’ ছবির ক্ষেত্রে কাস্টিং ভুল ছিল বলে তিনি জানান।
সিনেমার সাফল্য প্রসঙ্গে সিনেমা অপারেটর অক্ষয় রাঠি জানান যে, কোনো চলচ্চিত্র হিট না ফ্লপ, তা বক্স অফিস আয়ের চেয়ে বিনিয়োগের ওপর প্রাপ্ত লাভের ওপর বেশি নির্ভর করে। ‘দৃশ্যম ৩’-এর প্রযোজক কুমার মঙ্গত পাঠক বলেন যে, প্রতিটি সিনেমার শুরু হয় একটি গল্প দিয়ে এবং দর্শকদের হালকাভাবে নেওয়া যায় না। তিনি উল্লেখ করেন যে, সিনেমার আয়ের সম্ভাবনা অনুযায়ী অর্থ ব্যয় করা উচিত এবং বড় বাজেটের সিনেমার দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে না।
মন্তব্য করুন