
সৌদি আরবে সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশিকে ২০২৩ সালে আটক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি জানান, সরকার এখন রায়ের কপির জন্য অপেক্ষা করছে। বুধবার বাংলাদেশি এক নারী ও এক পুরুষের মৃত্যুদণ্ডের খবর সৌদি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলেও, সৌদি আরব বা বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করেনি। তবে পুরুষ ব্যক্তির বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় বলে জানা গেছে।
নিহত ওই যুবকের মা বিবিসি বাংলাকে জানান, ঘটনার তিন দিন আগে গত রোববারও জেলের ভেতর থেকে তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তার ছেলে। তিনি বলেন, সংবাদ প্রচারের পর এই খবর শুনে ছেলের ফুফু স্ট্রোক করে মারা যান। শোকার্ত পরিবারটি দ্রুত ওই যুবকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ জানিয়েছেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্যক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কি-না সে বিষয়ে সরকারি কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দালালের মাধ্যমে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে গিয়েছিলেন ওই যুবক। তিনি রিয়াদে একটি মসজিদে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করতেন এবং যে মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আনা হয়েছে, সেখানেই তিনি কর্মরত ছিলেন। যাওয়ার ছয় মাস পর ২০২৩ সালে তাকে আটক করা হয়। পরিবারের ভাষ্যমতে, জেলে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত ফোনে কথা বলতেন এবং এক পর্যায়ে ওই নারীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্কের কথা পরিবারকে জানিয়েছিলেন।
রোববার ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ বিন জাফর এইচ বিন আবিয়াকে ডেকে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, সৌদি আরবের বিভিন্ন শহরে কারাভোগ করা বাংলাদেশিদের তালিকা দূতাবাস পেয়ে থাকে এবং তারা খতিয়ে দেখছেন এই নামগুলো সেখানে ছিল কি না। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ ড. রায়হান রশীদ মনে করেন, আটকের পর থেকেই কনস্যুলার সুবিধা পাওয়ার অধিকার ওই নাগরিকদের ছিল।
সূত্র: BBC News Bangla
মন্তব্য করুন