
নিজস্ব সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে কথা বলায় এবং পরিবেশ রক্ষায় সরব থাকায় আন্তর্জাতিক পুরস্কারপ্রাপ্ত তারকা ফটোসাংবাদিক আল আমিন লিওন এবং জিটিভির ভিডিও এডিটর ও প্রচার বিভাগের ইনচার্জ মহাইমিনুল তুরনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে থাকা একদল অবৈধ বালুখেকো চক্র এই হুমকি দিয়েছে বলে জানা গেছে।
ফটোসাংবাদিক আল আমিন লিওন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে তুলে ধরেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার ফটোসাংবাদিকদের বৃহত্তম সংগঠন ‘বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন’-এর স্থায়ী ও সাবেক কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য তিনি। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জনকারী এই সাংবাদিকের আলোকচিত্র স্থান পেয়েছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত ‘জুলাই জাদুঘরে’। তাঁর পেশাগত অবদান ও সম্মানে গফরগাঁও প্রেসক্লাব তাঁকে আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় পরিবেশ আইন অনুযায়ী ব্রিজের নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে বা মানুষের বসতবাড়ির নদী সীমানা ঘেঁষে বালু উত্তোলনের ফলে সেতু ধস ও মানুষের জমিজমা বিলীন হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে আল আমিন লিওন সচেতনতামূলক বক্তব্য দেন। এরই জেরে বিএনপি ও স্থানীয় রাজনীতির নাম ভাঙিয়ে চলা একদল বালু ব্যবসায়ী তাঁকে ও জিটিভির সাংবাদিক মহাইমিনুল তুরনকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
উল্লেখ্য, বিগত সরকারের আমলেও গফরগাঁওয়ের রাজনীতির সমীকরণ নির্ধারিত হতো বালু মহালের দখলের মাধ্যমে। সেসময় পদ-পদবিহীন বা নিম্নের পদে থেকেও শুধুমাত্র বালুর দখল ও সন্ত্রাসী বাহিনী থাকার কারণে অনেকে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। বর্তমানে সেই একই ধারায় নতুন করে বালু মহাল দখল করতে একটি গোষ্ঠী পরিবেশবাদী ও সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কণ্ঠরোধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি হুমকির বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। তবে খুব দ্রুতই খোঁজখবর নিয়ে এ বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেবেন।
গফরগাঁওয়ের সচেতন নাগরিক ও সাধারণ জনগণ অবিলম্বে এই বালুখেকো চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং হুমকিপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন