
মোঃ নুর উদ্দিন মন্ডল দুলাল, নেত্রকোণা:
মুসলিম সেজে এক মুসলিম তরুণীকে প্রথমে বিয়ে, অতঃপর ৮ বছর পর দুই সন্তানকে ফেলে রেখে পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে দ্বিতীয় বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রথম স্ত্রী তাঁর দুই সন্তানের বাবার পরিচয় এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও বিপাকে পড়েছেন।
প্রতারণার শিকার হয়ে প্রথম স্ত্রী শিপুল আক্তার খানম (২৭) বাদী হয়ে স্বামী অর্জুন ধর হীরা ওরফে হীরা ধর (৩০) ও শাশুড়ি কৃষ্ণা রানী ঘোষের (৫৮) বিরুদ্ধে নেত্রকোণা সদর আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন শুভ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নেত্রকোণা পিবিআইয়ের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জামান আলী জানান, মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলছে এবং দ্রুতই আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
অভিযুক্ত অর্জুন ধর হীরা নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার শালদীঘা গ্রামের মৃত জয়কৃষ্ণ ধরের ছেলে। ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোহনগঞ্জ পৌর শহরের দৌলতপুরে বসবাসের সময় স্থানীয় মুসলিম তরুণী শিপুল আক্তারের সঙ্গে অর্জুনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৪ সালে এফিডেভিটের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে ‘মো. হিরা মিয়া’ নাম ধারণ করে তিনি শিপুলকে বিয়ে করেন।
পরবর্তীতে ২০১৫ সালে তাঁদের একটি কন্যা সন্তান (জান্নাতুল হিয়া) এবং ২০২২ সালে একটি পুত্র সন্তান (আব্দুল্লাহ) জন্মগ্রহণ করে।
অভিযোগে জানা যায়, ইসলাম গ্রহণের পর অর্জুন নামাজ-রোজা পালন করলেও নানা অজুহাতে বিয়ের কাবিন রেজিস্ট্রি এড়িয়ে যান। ২০২২ সালে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পরপরই মায়ের প্ররোচনায় তিনি পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে গিয়ে গোপনে অপর এক হিন্দু তরুণীকে বিয়ে করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথম স্ত্রীর ওপর যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়।
পরবর্তী সময়ে প্রতিকার চেয়ে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে অভিযোগ করা হলে ২০২৫ সালের ৪ জুন উভয় পক্ষের সম্মতিতে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি আপোশনামা ও অ্যাফিডেভিট সম্পাদন করা হয়। এতে সন্তানদের খরচ বহন ও বাড়ি নির্মাণের শর্ত থাকলেও তা মেনে চলেননি অভিযুক্ত অর্জুন ও তাঁর মা।
ভুক্তভোগী শিপুল খানম ক্ষোভ ও শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “স্বামী ও শাশুড়ির প্রতারণায় আজ আমার সন্তানদের বাবার পরিচয় নিয়ে আমি শঙ্কিত। সমাজে কোন পরিচয়ে তারা বড় হবে?
অন্যদিকে অভিযোগ প্রসঙ্গে অর্জুন ধর হীরা জানান, তিনি অনেক আগেই প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়েছেন।
বর্তমানে মামলাটি পিবিআই-এর তদন্তাধীন রয়েছে।
মন্তব্য করুন