নিজেস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ৮ নম্বর রাঙামাটিয়া ইউনিয়ন পরিষদে শিশুর ভুয়া জন্মসনদ নিবন্ধনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই না করে জন্মনিবন্ধন সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই ইউনিয়ন পরিষদে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য যথাযথ ভাবে যাচাই না করেই ২০২৫ সালে ১১৫ টি শিশুর ভুয়া জন্মসনদ নিবন্ধন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ৪৫ দিন পর তাদের মৃত্যু সনদ নিবন্ধন করা হয়েছে । অথচ ঐ এলাকায় গিয়ে দেখা যায় নিবন্ধিত শিশগুলোর জন্মই হয়নি। পরবর্তীতে বিষয়টি নজরে এলে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এ প্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই চেয়ারম্যান ও ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে জন্ম নিবন্ধনের মিথ্যা সনদের ব্যপারে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। উনারা দাবি করেন,জন্ম ও মৃত্যু সনদ নিবন্ধনের কোঠা পূরন নির্দেশনা পালনে করতে গিয়ে তাদের এই ভূল হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অধিকাংশ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে ও উল্লেখ করেন।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জন্মনিবন্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে সেবা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, জন্মনিবন্ধন সনদ একজন নাগরিকের গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্রের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই এ ধরনের সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসতর্কতা সাধারণ মানুষের জন্য ভোগান্তির কারণ হতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টির নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সরকারের কোঠা পূরন নির্দেশনা বাতিলের পক্ষেও অনেকে কথা বলেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত কাউকে দোষারোপ না করাই উচিৎ বলে মনে করেন সচেতন মহল।
চেয়ারম্যান ও ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার ক্ষমা প্রার্থনার বিষয়টি বিবেচনায় এনে নাগরিক সেবার সুযোগ প্রদানের ব্যাপারে ও অনেকে ইতিবাচক তিবাচক কথা বলেন।
মন্তব্য করুন