
মো:মোজাম্মেল হক
নিজস্ব প্রতিবেদক
মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের সময় কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীরদ্বীপের পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করেছে স্থানীয় জেলেরা। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং চারজন মাঝিমাল্লা রয়েছেন। ১৮ জনকে বিজিবির হেফাজতে রাখা হয়েছে পরবর্তীতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাদের টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিম পাড়া উপকূল নৌঘাট থেকে প্রায় ১ থেকে ১.৫ কিলোমিটার দূরে সাগরে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে মায়ানমার থেকে আসা ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। নৌকাডুবির ঘটনা দেখতে পেয়ে স্থানীয় জেলেরা দুটি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে সাগর থেকে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌঘাটে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধারকারীদের মধ্যে চারজন মাঝি ছিলেন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে ২৭ জন রোহিঙ্গা যাত্রী ছিল বলে জানা গেছে। সাগরের প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে নৌকাটি ডুবে গেলে একটি মাছ ধরার নৌকা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার কার্যক্রম চালায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধারকারী চার মাঝিরা হলেন উখিয়া বালুখালী, জামতলী ও টেকনাফ জাদিমুড়া ও শালবাগান রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দার নুর আলম (৩৭),জাহেদ হোসেন (৪২),সৈয়দ নুর (২৭), নুর কামাল (৪০)। এছাড়া ১৪ জন রোহিঙ্গা নাগরিকরা কক্সবাজারের উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে বাসিন্দার বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তারা সবাই আরসার সদস্য।
প্রাথমিকভাবে জানা যায়, বিজিবির হেফাজতে থাকা রোহিঙ্গারা সবাই আরসার (ARSA) এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। তারা মায়ানমারে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে দীর্ঘদিন অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে কেউ প্রায় এক বছর এবং অনেকে দুই বছর ধরে মায়ানমারে ছিলেন বলে জানা গেছে। যুদ্ধবিরতির সময় খাদ্য সংকট দেখা দেওয়ায় তারা নাফ নদী হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন উখিয়া টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রয়েছেন। তাদের পরিচয় যাচাই করা করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সুরাইয়া জানান, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে বিজিবি সদস্যরা ১৮ জন রোহিঙ্গা নাগরিককে জরুরি বিভাগে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে বিজিবি সদস্যরা তাদের আবার নিয়ে যান। চিকিৎসক জানান, ওই ১৮ জনের কারও শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সুকান্ত জানান, বিজিবি ১৬ জন রোহিঙ্গাকে থানায় হস্তান্তর করেছে। বাকি দুইজনকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, আটক সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক
মন্তব্য করুন