
গফরগাঁও উপজেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানাধীন পাইথল ইউনিয়নে ছাত্রদলের এক সাবেক নেতার বাড়িঘর এবং স্থানীয় গয়েশপুর বাজারে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর সশস্ত্র অনুসারীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৩০ মে) শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকীর আলোচনা সভায় অংশ নেওয়ার জেরে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলীয় কোন্দলের (গ্রুপিং) অংশ হিসেবে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয় বলে ভুক্তভোগী নেতার দাবি।
ভুক্তভোগী সুখেন আকন্দ পাগলা থানা ছাত্রদলের সাবেক সদস্য সচিব এবং পাইথল ইউনিয়নের বাসিন্দা। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে তিনি এই নির্মম হামলার বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
১৭ বছরের রাজপথের লড়াই, প্রতিদান হামলা:
ফেসবুক লাইভে সুখেন আকন্দ ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে লড়াই, আন্দোলন ও সংগ্রাম করেছি। একাধিক মামলার শিকার হয়েছি। গত ২৮শে অক্টোবর ঢাকার রাজপথে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে গুলিও খেয়েছি। ৫ই আগস্ট পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে আমরা সক্রিয় ছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, আজকে দলীয় গ্রুপিং জটিলতার কারণে আমাদের এই নির্মম অবস্থার শিকার হতে হলো।”
হামলার বিবরণ ও ক্ষয়ক্ষতি:
তিনি জানান, শনিবার ড. মোফাক্কেরুল ইসলাম রানা ও ফাত্তাহর আহ্বানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকীর কর্মসূচিতে ২-৩ শত কর্মী-সমর্থক নিয়ে তিনি অংশ নেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাচ্চুর নির্দেশে ১৫টি ইউনিয়ন থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী এনে এই হামলা চালানো হয়।
সুখেন আকন্দ অভিযোগ করেন, “এমপির সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী আমার পাইথল ইউনিয়নের বাড়িতে ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তারা এতটাই নির্মম যে, বাড়ির পানির ট্যাংক, ফ্রিজ, টিভি সব ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এমনকি রান্না করার পাতিল এবং আমার পায়ের জুতো পর্যন্ত লুটে নিয়ে গেছে। ঈদে আমার বোন ও ভাবিরা বেড়াতে এসেছিলেন, তাদের সমস্ত স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকাও লুট করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, শুধু বাড়িঘরই নয়, সন্ত্রাসীরা গয়েশপুর বাজারে গিয়েও তাণ্ডব চালায় এবং সেখানে প্রায় ১০ থেকে ১৫টি দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাট করে। অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের বাজারে অবস্থান নেওয়ার ও হামলার সমস্ত ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমানের কাছে বিচার দাবি:
ছাত্রদলের এই সাবেক সদস্য সচিব আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “যখন বাঘা বাঘা নেতারা সামনে দাঁড়াতে পারে নাই, তখন আমরা রাজপথে বুক চিতিয়ে মিছিল-সংগ্রাম করেছি। অথচ আজ ছাত্রদলের সর্বোচ্চ ভূমিকা পালন করার পরও আমাদের বাড়িঘরে এই অন্যায় করা হলো। বাড়িতে পানি খাওয়ার মতো কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।”
তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমরা যেন নিজ এলাকায় সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারি এবং বিএনপির রাজনীতি, ছাত্রদলের রাজনীতি করতে পারি—মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের কাছে সেই নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে আজকের এই হামলার নেপথ্যের হুকুমদাতা এবং সরাসরি যারা অংশ নিয়েছে, তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করছি।”
মন্তব্য করুন