
মদন নেত্রকোনা প্রতিনিধি
নেত্রকোনার মদনে চাপা খালি নদী ও খাল খাস কালেকশন ছাড়াই প্রভাবশালীদের দখলে নিয়ে মাছ ফিশিং। অবৈধ দখলদার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্য পাভেল মেম্বার বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ ও সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,
উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হাসানপুর ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে রয়েছে ১২.২৭ একর চাপা খালী সরকারি খাস জমি উক্ত জমিতে বনতিয়শ্রী গ্রামের প্রভাবশালীরা দখল নিয়ে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব কে ম্যানেজ করে সরকারি চাপা খালি নদী ও খাল দখলে নিতে মাছ ফিশিং করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় বনতিয়শ্রী এবং হাসানপুর দুই গ্রামের মানুষজনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে যে কোন সময় ঘটে যেতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
চাপাখালী নদী সংযোগ রয়েছে বন্নি নদীর অংশ যা, মিঠা পানির মাছের জন্য বিখ্যাত ছিল একসময়।
আর বন্নি নদী ব্রিজের নিচ দিয়ে জাল দিয়ে আটকি মাছ ফিশিং করছে প্রভাবশালী মহল।স্থানীয় জনগণের চাহিদা পূরণ হত চাপাখালী নদী খাল উন্মুক্ত থাকলে ।
চাপা খালি নদী বিল প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাওয়ায় পানি শুকিয়ে নদীগুলো নাব্যতা হারিয়ে পরিণত হয়েছে সরু নালায়। আর খাল-বিল শুকিয়ে ফসলী জমিতে পরিণত হয়েছে। নদী, খাল-বিলের এই পরিণতিতে এসব পথে নৌচলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালীরা সবকিছু তাদের দখলে নিয়ে চাষাবাদ মাছ ফিশিং করছে।
চাপাখালি নদী ও খাল থেকে মাছ ধরে এলাকার হতদরিদ্র ও জেলে পরিবারের লোকজন জীবিকা নির্বাহ করত।বর্তমানে ওই এলাক ২শত জেলে পরিবার বেকার হয়ে অর্ধাহারে অনাহারে জীবন যাপন করছে।
ফতেপুর চাপা খালি ১২.২৭ একর সরকারি চাপা গালি নদী বিল দখল করে মাছ ফিসিং করছে গ্রামের অনেকেই জানায়, ফতেপুর ভূমি অফিসের নায়েব তশিলদার অফিসের সামনে চোখের নাগালে কোনদিন সে প্রতিবাদও করে নাই, এবং নিষেধও করেনী। সরকারি ভাবে খাস কালেকশন না নিয়ে
জাল দিয়ে বেড়া দিয়ে দখলে নিয়ে মাছ মিটিং করছে তিনি কিছু বলেননি তার মানে তার সাথে আঁতাত করেই এ কাজটি করছে এলাকার প্রভাবশালী মহল।
এঘটনা অভিযোগকারী বর্তমান ইউপি সদস্য পাভেল মেম্বার বলেন, চাপাখালী নদী ১২.২৭ একর জমি ব্যতীত হাসনপুর গ্রাম বাসীর প্রায় ১০০০ একর জমি রয়েছে এই মাছ ফিলিংয়ের ঘেরে মধ্যে ।আমাদের জমি জোরপূর্বক অবৈধভাবে দখল করে নিয়ে তারা আমাদের দরিদ্র জেলেরা মাছ ধরতে গেলে তাদেরকে মারধর করছে। গত এক সপ্তাহ আগে বনতিয়শ্রী গ্রামের প্রভাবশালীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের গ্রামে আক্রমণ করতে আসে জেলেরা মাছ ধরতে যাওয়ার কারণ। পরে এলাকার স্থানীয় লোকজন মিলে দু,পক্ষকে মারামারি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থেকে বিরত করেন।
এ বিষয়ে ফতেপুর ইউনিয়নের ভূমি অফিসের নায়েব তসিলদার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টা আমার জানা নেই। এ ঘটনার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টা জানানো হবে।
ফতেপুর ইউপি চেয়ারম্যান সামিউল হায়দার সফি জানান, চাপাখালি নদী, খাল-বিলের বিষয় আমার কোন কিছুই জানা নেই।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওলিন নাহার জানায়, ফতেপুর চাপাখালী নদী অবৈধ দখলে নেওয়ার বিষয় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। নায়েব কে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি বিষয়টা জেনে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন