
পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান ধর্মের মানুষের ওপর একের পর এক হামলার অভিযোগ উঠছে। পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় এক খ্রিস্টান পরিবারের অভিযোগ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য বলে পরিচয় দেওয়া একদল ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালান এবং সরকারি পরিষেবা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকি দেন।
আক্রান্ত পার্বতী হেমব্রম সোরেন বিবিসি বাংলাকে জানান, পরিবারের সকলে মিলে সোমবার রাতে প্রার্থনা শুরু করতে যাওয়ার সময় ৩০ জনেরও বেশি ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় জোর করে তাদের বাড়িতে ঢুকে পড়েন। তিনি বলেন, তার চুলের মুঠি ধরে মারধর করা হয় এবং তাদের বাড়িতে থাকতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তার দাবি, হামলাকারীরা খ্রিস্টধর্ম ছেড়ে হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন। পাঁশকুড়া থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, তারা লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্তকারী অফিসার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন, তবে এখনও এফআইআর দায়ের হয়নি।
এদিকে, কয়েক দিন আগে দুর্গাপুজোর সময় পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় বজরং দলের সদস্য বলে পরিচয় দেওয়া একদল ব্যক্তির বিরুদ্ধে একাধিক খ্রিস্টান পরিবারের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। চন্দ্রকোনার মূল অভিযোগকারী নারী জানান, ১৮ই অক্টোবর বজরং দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা তার বাড়িতে এসে যিশু খ্রিস্টের প্রতি বিশ্বাস ত্যাগ করার জন্য চাপ দেন এবং শারীরিক নির্যাতন করেন। তার অভিযোগ, তাকে জোর করে স্নান করিয়ে তথাকথিত শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাধ্য করা হয় এবং ২০শে অক্টোবর তাকে ও তার স্বামীসহ চারজনকে একটি পুজোমণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয়। চন্দ্রকোনার ঘটনায় ২০শে অক্টোবর এফআইআর দায়ের করা হলেও পুলিশ জানায়, পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
গবেষণা সংস্থা ‘ইন্ডিয়া হেট ল্যাব’-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যের ১৩টি জেলায় খ্রিস্টানদের ওপর মোট ৬০টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ‘বঙ্গীয় খ্রিষ্টিয় পরিষেবা’ সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা হেরোদ মল্লিক দাবি করেন, একের পর এক এমন হামলা হচ্ছে এবং সরকার বা প্রশাসন কোনো সাড়া দিচ্ছে না।
বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পশ্চিমবঙ্গসহ কয়েকটি রাজ্যের নেতা চন্দ্রনাথ দাস বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বিরুদ্ধে ওঠা আক্রমণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি জানান, তাদের সংগঠন গ্রামের পর গ্রাম ধার্মিক শিক্ষার মাধ্যমে খ্রিস্টান ও মুসলিমদের হিন্দু ধর্মে ফেরানোর অভিযান চালাচ্ছে এবং তাদের লক্ষ্য কেউ যেন খ্রিস্টান না থাকে।
অন্যদিকে, বিজেপির মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার বিবিসি বাংলাকে জানান, সরকার যেকোনো অন্যায়ের প্রতি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়েছে এবং কেউ সাম্প্রদায়িক সুবিধা পাবে না। পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘটনায় কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন।
মন্তব্য করুন