
মনিরুল ইসলাম
নেত্রকোনা
নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়ন একটি দুর্গম ইউনিয়ন। উক্ত ইউনিয়নে আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের সহায়তায় পরিচালিত ইপিআই কার্যক্রমের জন্য DEPB ফান্ডের বরাদ্দকৃত নৌকা ভাড়ার অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দুর্গাপুর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত এমটি (ইপিআই) আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের বর্ষাকালে দুর্গম এলাকা হিসেবে চিহ্নিত গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নে টিকাদান কার্যক্রম সচল রাখতে ইউনিসেফের DEPB প্রোগ্রামের আওতায় ৪৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অত্র ইউনিয়নের স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীদের দাবি, বর্ষাকালে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে নৌকা ভাড়া করে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ইপিআই কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়েছে। অথচ সেই খরচ মেটানোর জন্য ইউনিসেফের বরাদ্দকৃত অর্থ ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট মাঠকর্মীদের মাঝে বিতরণ না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত বর্ষা মৌসুমে ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সহকারী ও মাঠপর্যায়ের কর্মীরা দিন-রাত পরিশ্রম করে টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও বরাদ্দকৃত ৪৮ হাজার টাকার কোনো অংশ তারা পাননি।সে টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের রাজনীতির প্রভাব খাটিয়ে বালুর ব্যবসা বানিজ্য সহ তিনি বিভিন্ন অনিয়ম চালিয়ে আসছেন বলে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। ইতিপুর্বেও তার বিরুদ্ধে সচেতন মহলের অভিযোগ বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় লেখালেখি হয়। হাসপাতালের বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মীরা ও তার আচার আচরনে ক্ষুব্ধ।সে কর্মক্ষেত্রে সকলের জুনিয়র। নিয়ম মাফিক সিনিয়র দেরকে অভারটেক করে এপদে আসতে পারে না। সে বিভিন্ন যোগসাজশে চক্রান্ত করে রাতের অন্ধকারে তাড়াহুড়া বদলীকৃত স্থানীয় কতৃপক্ষ নিয়ম বর্হিভুত ভাবে তাকে দায়িত্ব দিয়ে তৎক্ষনাৎ চলে যান। এভাবে এমটি ইপিআই এর চেয়ারে বসে সে একের পর এক প্রশাসনিক কাজে দুর্নীতি করে আসছেন। এছাড়াও ২০২৫ সালে পরিচালিত TCV ক্যাম্পেনের আওতায় মাঠপর্যায়ে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার জন্য জনপ্রতি ৭০০ টাকা খরচ নির্ধারিত থাকলেও সংশ্লিষ্ট পোটারদের অভিযোগ, তাদের মাত্র ৫০০ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে। বাকি অর্থ সে নিজে আত্মসাৎ করেছে। এমনকি মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বরাদ্দ ১০৫০০ টাকা বরাদ্ধের মধ্যে পোটারদের লেবার খরচ নামমাত্র ২০০০ টাকা খরচ দেখিয়ে বাকি ৮৫০০ নিজে আত্মসাৎ করেছে। এব্যাপাের তা নিয়ে মাঠকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশ্ন ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের ভেতরে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার মৌখিকভাবে অভিযোগ জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যকর্মীরা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টার পর সে অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং পরবর্তীতে তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তার কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছে, ইউনিসেফের অর্থায়নে পরিচালিত জনস্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি বলে তারা মনে করছেন
মন্তব্য করুন