
এ,কে,এম, রুহুল আমিন স্টাফ রিপোর্টার| ৩০ জুলাই ২০২৬
ময়মনসিংহ জেলার সাবেক গফরগাঁও উপজেলাকে বিভক্ত করে নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার প্রশাসনিক ভবনের স্থান নির্ধারণ ঘিরে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। সম্প্রতি প্রকাশিত সরকারি গেজেটে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার প্রশাসনিক ভবন ও কার্যালয় দত্তের বাজার ইউনিয়নের ১৪৩ নং নয়াবাড়ি মৌজায় স্থাপনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। তবে গেজেটে নির্ধারিত এই স্থানের পরিবর্তে পাগলা মৌজাতে প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের দাবি তুলে পাগলা এলাকার কিছু বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ ও আন্দোলন শুরু করেন।
আজ ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার এই দাবির প্রতিবাদে এবং সরকারি গেজেট অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানেই উপজেলা পরিষদ কার্যালয় স্থাপনের পক্ষে একত্রিত হন নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।
আজ সকালে ১৪৩ নং নয়াবাড়ি মৌজায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় নবগঠিত উপজেলার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, শিক্ষক ও সাধারণ নাগরিকেরা অংশ নেন। স্বতঃস্ফূর্ত এ সমাবেশে বক্তারা সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে অবিলম্বে গেজেট অনুযায়ী নয়াবাড়ি মৌজাতেই প্রশাসনিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।
সমাবেশে উপস্থিত স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব ও প্রতিনিধিরা বলেন, “সরকার এলাকাভিত্তিক ভৌগোলিক গুরুত্ব, সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামোগত দিক বিবেচনা করেই ১৪৩ নং নয়াবাড়ি মৌজাকে প্রশাসনিক কেন্দ্রের জন্য নির্বাচন করেছে। গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর একটি বিশেষ গোষ্ঠীর বিরোধিতার কারণে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সার্বিক প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজ বিলম্বিত হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টদায়ক।”
সমাবেশ থেকে স্থানীয় জনগণ হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, গেজেট বাস্তবায়নে কোনো ধরনের তালবাহানা বা বিভ্রান্তি তৈরি করা হলে তারা দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তুলবেন।
উল্লেখ্য, সাবেক গফরগাঁও উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে দক্ষিণ গফরগাঁও নামে নতুন এই উপজেলার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রশাসনিক ভবন স্থাপনের চূড়ান্ত স্থান নিয়ে বর্তমানে দুই পক্ষে আলোচনা ও ক্ষোভ দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন বাড়তি নজরদারি জোরদার করেছে।
মন্তব্য করুন