
লেখক :সাংবাদিক মহিউদ্দিন তালুকদার
তিবাদী দিন ঘুমিয়ে পড়েছে? জাগো রে বজ্র-বাণ!
তিমির-রাত্রির বুক চিরে আজ চলিছে সত্য-সন্ধান!
তুচ্ছ ছুতায় নামে জুলুমের নির্মম আঘাত-হান,
স্বার্থান্ধের খঞ্জর আজ হানিছে বিষাক্ত বাণ!
সত্যেরে তারা পিষিতে চাহিছে আসুরিক জাঁতাকলে,
তাই তো আঘাত হানে বারবার সত্যের সেনাদলে!
কলমের এই তীব্র চাবুক সহে না জালিম-হায়না,
তাই তো শহীদ নির্ভীক কবি, আপস তো সে চেনে না!
দলহীন যারা, সত্যের দাস—তাহারা তো আজ একা,
ক্ষমতার এই অন্ধ মহলে রক্তে ললাট লেখা!
বিপন্ন আজ মুক্ত কণ্ঠ, ম্রিয়মাণ ইনসাফ,
বুক চিরে জাগে রুদ্র-জিজ্ঞাসা—কে করিবে এই মাফ?
কলম ধরিলে ধেয়ে আসে ঝড়, নামে ঘোর আঁধিয়ারি,
মত্ত উল্লাসে অট্ট হাসে রে অন্যায়ের কারবারী!
কত না প্রাঞ্জল প্রাণ ঝরে গেল এই মর্ত্যের ধূলি-‘পরে,
বিচারের বাণী ডুকরে কাঁদিছে শৃঙ্খলিত ওই ঘরে!
বঞ্চিত যত মজলুম লোক, বুকে চেপে রাখা শোক—
ছুটে আসে এই কলম-সৈনিকে, খুঁজিতে মুক্ত আলোক!
শোষিতের তরে যে বীর পুরুষ দিতেছে রাত্রি-পাহারা,
সে নিজেই আজ জুলুমের শিকার, কাঁদে চোখ-ভরা ধারা!
জুলুম আর ওই চোরাচালান চলে ক্ষমতার ছায়ায়,
অন্ধ মানুষ ইমান বেচেছে পশুর মতন মায়ায়!
ইতিহাস-পাতা দেখিয়াও এরা শেখে না তো কোনো পাঠ,
নমরুদ-ফেরাউন কোথা হারাল? ভেঙেছে তাদের খাট!
ফ্যাসিস্টের ওই পতন দেখিয়াও জাগেনি তো হুশ কারো,
নতুন লেবাসে নতুন রূপেতে শোষক জাগিছে আরও!
জনতার মাঝে মুখোশ পরিয়া ঘোরে কত জল্লাদ,
ইতিহাস বদলায়, শেষ হয় না তো এই পশুর আহ্লাদ!
তবুও মানুষ আশায় বুক বাঁধে, মহাকালের ওই ডাকে,
আসিব দূরন্ত বিপ্লব-দিন, শৃঙ্খল ছিঁড়ে যা কে!
নিজে পাপী হয়ে অন্যের ঘাড়ে যাহারা চাপায় দোষ,
মহাকালের এই রণ-রঙ্গমঞ্চে নামিবে খোদার রোষ!
মন্তব্য করুন