কিংবদন্তি অভিনেতা স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন
আন্তর্জাতিক
কিংবদন্তি অভিনেতা স্যার প্যাট্রিক স্টুয়ার্ট মারা গেছেন
আন্তর্জাতিক
পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ
আইন আদালত
যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোটের নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা
আন্তর্জাতিক
বিশেষ কোনো চেষ্টা ছাড়াই কীভাবে বাড়ানো যায় দৈনন্দিন শারীরিক নড়াচড়া
অন্যান্য
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি রয়েছে, যা প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। আগামী তেসরা নভেম্বর আমেরিকানরা দেশের দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা কংগ্রেসের সদস্যদের নির্বাচন করতে ভোট দেবেন। চার বছরের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের ঠিক মাঝপথে দুই বছর পর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় বলেই একে মধ্যবর্তী নির্বাচন বলা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ হিসেবে কংগ্রেস দেশব্যাপী প্রযোজ্য ফেডারেল আইন প্রণয়ন ও পাস করে থাকে।
বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারণ করবে যে ট্রাম্পের রিপাবলিকান নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেবে। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের পক্ষে তার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা কতটা সহজ হবে, তা পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে এই ফলাফলকে বর্তমান প্রেসিডেন্টের কর্মকাণ্ডে মার্কিন জনগণের সন্তুষ্টির পরিমাপক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ জন সদস্য এবং উচ্চকক্ষ সেনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনের জন্য এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি, ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া এবং মিশিগানের মতো রাজ্যগুলোর গভর্নর নির্বাচনসহ স্থানীয় রাজ্য-স্তরের নির্বাচনও একই দিনে সম্পন্ন হবে।
ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন অর্থনীতি, জ্বালানি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা। মুদ্রাস্ফীতি এখনো ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে, যার পেছনে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের শুরু হওয়া যুদ্ধের আংশিক প্রভাব রয়েছে। এছাড়া ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্ক কর্মসূচি মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে বলে ডেমোক্র্যাটরা যুক্তি দিয়েছেন। অন্যদিকে, সীমান্ত কঠোর করার মাধ্যমে অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনাকে রিপাবলিকানরা একটি বড় প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় দলের রাজনীতিবিদদের মধ্যে চিন্তার বিষয়টিও সামনে এসেছে।
বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষই রিপাবলিকান পার্টির দখলে রয়েছে, তবে তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত সামান্য। প্রতিনিধি পরিষদে তাদের আসন সংখ্যা ২১৮, আর উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত ৫১টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যদি কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে পারে, তবে তারা নিজেদের আইন উত্থাপন এবং হোয়াইট হাউজের বিভিন্ন কার্যক্রম তদন্ত করার সুযোগ পাবে। এমনকি ট্রাম্পকে অভিশংসন করা হবে কি না, তা নিয়েও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে বিতর্ক চলছে। বিপরীতে, রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে থাকলে ট্রাম্প তার পরিকল্পনাগুলো সহজেই এগিয়ে নিতে পারবেন। সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী প্রেসিডেন্টের জনসমর্থন কিছুট কমে আসায় এবারের নির্বাচন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।