পূবালী ব্যাংকের সৌজন্যে নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি হস্তান্তর
আজকের পত্রিকা
পূবালী ব্যাংকের সৌজন্যে নেত্রকোণা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাড়ি হস্তান্তর
আজকের পত্রিকা
পূর্বধলায় ৪ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার
অপরাধ
দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের নবনিযুক্ত ইউএনও জান্নাতুল নাঈমকে ফুলেল সংবর্ধনা।
জাতীয়
লংগাইরে প্রফেসর নাসির উদ্দিনের নির্বাচনী উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত।
সারাদেশ
পলাশ পাল, স্টাফ রিপোর্টার
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরি। চলতি বছরের গত কয়েক মাসে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মাঠ থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমের মুখেই এই বিশাল চুরির ঘটনায় সেচ কার্যক্রম নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, চলতি বছরের এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সেচ পাম্প থেকে প্রায় ৫০টিরও বেশি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। তবে নেত্রকোনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মোহনগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের সরকারি হিসাবে চুরির সংখ্যা ৪০ থেকে ৪৫টি। সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর, বড়তলী-বানিয়াহারী, তেঁতুলিয়া, সমাজ-সহিলদেও, সোয়াইর ও গাগলাজুর ইউনিয়নের মাঠ ঘুরে বহু বৈদ্যুতিক খুঁটি ট্রান্সফরমারশূন্য অবস্থায় দেখা গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা এ ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলছেন। ৪ নম্বর মাঘান-সিয়াধার ইউনিয়নের দাশপাড়া গ্রামের কৃষক জাকির হোসেন রনু জানান, গত ১৮ আগস্ট রাতে চালু বিদ্যুৎ সংযোগ অবস্থাতেই তাঁর সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি হয়। বিদ্যুৎ চালু থাকা অবস্থায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রান্সফরমার খোলা সাধারণ চোরের পক্ষে অসম্ভব উল্লেখ করে তিনি এতে বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু লোকজনের সম্পৃক্ততার সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এদিকে চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার পুনঃস্থাপনে ভারী আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন কৃষকরা। পেরিরচর গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, নতুন একটি ট্রান্সফরমার বসাতে প্রায় ৭০ হাজার টাকা প্রয়োজন, যা তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। অন্যদিকে ৬ নম্বর সোয়াইর ইউনিয়নের শেখপুর গ্রামের কৃষক বজলুর রশিদ খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাঁর সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার দুইবার চুরি হওয়া সত্ত্বেও বিদ্যুৎ কার্যালয় কিংবা থানায় যোগাযোগ করে তিনি কোনো সুরাহা পাননি।
যোগাযোগ করা হলে মোহনগঞ্জ জোনাল অফিসের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) রফিকুল ইসলাম চুরির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, জুন মাসে ১৫টি, জুলাইয়ে ১৩টি, আগস্টে ৯টি এবং সেপ্টেম্বরের এ পর্যন্ত ২টি ট্রান্সফরমার চুরির দাপ্তরিক অভিযোগ মিলেছে। বিনামূল্যে এগুলো পুনঃস্থাপনের সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, "শুধুমাত্র গ্রাহক কর্তৃক সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দিলেই দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার সংযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।"
মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুল ইসলাম হারুন জানান, একাধিক অভিযোগ পাওয়ার পর ইতোমধ্যেই পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। চক্রের কয়েকজনকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং পুরো চক্রটি নির্মূলে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আগামী বোরো মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারগুলো দ্রুত পুনঃস্থাপন ও নিরাপত্তার কার্যকর ব্যবস্থা করা না হলে বিস্তীর্ণ জমিতে চাষাবাদ বন্ধ হয়ে মারাত্মক ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।