
মদন ( নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
মো:জুনায়েদ
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় অপরিত্যক্ত জমিতে
ব্যাপক হলুদ তরমুজ চাষে সফলতা অর্জন করেছেন কাইটাইল ইউনিয়নের কেশজানি গ্রামের বকুল মিয়ার ছেলে কৃষক সাদ্দাম মিয়া ( ৩০)।
মাচার নিচে হলুদ তরমুজের ঝুলন্ত রূপ যেন চোখ জুড়িয়ে দেয়। সবুজ কচি লতাপাতার মাঝে ঝুলছে হলুদ রঙের তরমুজ। ছোট-বড় তরমুজে নুয়ে পড়েছে মাচা। ঠিক যেন হলুদের সমারোহ।
এমনটাই দৃশ্য চোখে পড়ে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের কেশজানি গ্রামের জামতলা বাজারের পাশে।
উপজেলায় এই প্রথম মালচিং পদ্ধতিতে হলুদ তরমুজ চাষ করা হয়েছে। তাই এ তরমুজ চাষ দেখতে ভিড় করছেন এলাকার স্থানীয় কৃষকরা।
হলুদ তরমুজ চাষ করে সফল ও লাভবানের স্বপ্ন দেখছেন উপজেলা কৃষক সাদ্দাম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম মিজানের সুপরামর্শে উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতা কৃষক সাদ্দাম এই প্রথম মদন উপজেলায় হলুদ তরমুজ চাষে উদ্বুদ্ধ হন তিনি।
হলুদ তরমুজ দেখলে যেমন চোখ জুড়িয়ে যায় পাশাপাশি খেতেও সুস্বাদু ও রসালো হবার ফলে অধিক লাভবান হবার স্বপ্ন দেখছেন কৃষক সাদ্দাম।
উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের মাঠে কৃষক সাদ্দামের তরমুজ ক্ষেতে গিয়ে দেখা যায়, চারিদিকে হলুদের সমারোহ।
তিনি গত বছর লাউ চাষ করে পুঁজি পেয়ে কিছুটা লাভবান হয়েছিলেন তাই এবার লাউ চাষ বাদ দিয়ে
মদন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহায়তায় হলুদ তরমুজ চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন তিনি।
কৃষক সাদ্দাম জানান, আমি উপজেলায় কয়েকবার সেরা কৃষক হয়েছি। উপজেলা কৃষি অফিসার মিজান স্যার তিনি আমাকে অফিসে ডেকে নিয়ে হলুদ তরমুজ চাষ করার জন্য পরীক্ষামূলকভাবে
১০ শতাংশ জমিতে হলুদ তরমুজ চাষ করার জন্য পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আমাকে বলেন, বীজ সার যা কিছু লাগে সবকিছু কৃষি অফিস থেকেই দিবেন।
তাই আমি ১০ শতাংশ জমিতে উপজেলা কৃষি অফিসার মিজান স্যারের সুপরামর্শে বীজ রোপন করি।
এই জাতের তরমুজ রোপনের প্রায় ৭০ দিনের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়। স্বল্প পরিচর্যায় এই ফল উৎপাদন সম্ভব।
আর অসময়ে এই ফল উৎপাদিত হবার ফলে চড়া দামে বিক্রয় করা যায়। সেজন্য সামনে বছর হলুদ তরমুজ চাষের পরিমাণ বৃদ্ধি করবেন বলেও জানান কৃষক সাদ্দাম।
বর্তমান বাজারে হলুদ জাতের তরমুজের প্রতি কেজির দাম প্রায় একশ টাকা। যার ফলে অনেকটাই লাভবান হবেন কৃষক সাদ্দাম।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, অল্প খরচে আর কম পরিচর্যায় হলুদ তরমুজের ফলন দেখে আমরা অনেকটাই অবাক হয়েছি। সাদ্দামকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে সামনে বছর থেকে আমরাও হলুদ তরমুজ চাষ করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদুল হাসান মিজান বলেন, হলুদ তরমুজ চাষে অনেকটা লাভবান হওয়া যায়।এই জাতের তরমুজ খুব রসালো ও সুমিষ্ট হয়ে থাকে। পাশাপাশি অসময়ে তরমুজ উৎপাদন হবার ফলে কৃষকেরা লাভবান হবে বলেও জানান তিনি। এছাড়াও কৃষক সাদ্দাম কে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে সকল প্রকার পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
আশা রাখি সামনের বছর গ্রীষ্মকালীন তরমুজের আবাদ সকল ইউনিয়নে সম্প্রসারণ করা হবে।
মন্তব্য করুন