
মদন নেত্রকোনা প্রতিনিধি
মো:জুনায়েদ
আন্দোলন-সংগ্রামে পুলিশের হামলায় এক চোখ চিরতরে হারানো, অপর চোখের দৃষ্টিশক্তি অর্ধেক কম এবং একাধিক মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে কারাবরণ করার পরও নেত্রকোনার মদন উপজেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিতে মূল্যায়ন পাননি দলের ত্যাগী নেতা মেহেদী হাসান মিন্টু ওরফে নবাব।
কোনো জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) ছাড়াই অছাত্র, বিবাহিত এবং সন্তানাদি আছে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে পকেট কমিটি গঠন করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অবিলম্বে বিতর্কিত এই কমিটি বাতিল করে প্রকৃত ছাত্রদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন এই ছাত্রদল নেতা।
সোমবার (০৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাব মদন উপজেলা শাখায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে মেহেদী হাসান মিন্টুর সাথে ছিলেন, মদন উপজেলা ছাত্রদলের কর্মী অমিত হাসান নোবেল, ছাত্রদলের কর্মী রিয়াদ হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে নিজ বক্তব্যে সাবেক ২নং চানগাও ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং মদন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী মেহেদী হাসান মিন্টু বলেন, “আমি দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে রক্ত দিয়েছি। ২০১৮ সালের ১৫ই ডিসেম্বর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের সহধর্মিণী তাহমিনা জামান শ্রাবণীর নমিনেশনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের হামলার সময় আমি সামনের সারিতে ছিলাম। ওই রাতেই আমার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দেওয়া হয়।
তিনি আরও জানান, ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট নুরুল আলম চেয়ারম্যানের (বর্তমান মদন বিএনপির সভাপতি) বাড়ির দিকে বিক্ষোভ সমাবেশের সময় পুলিশের হামলায় তিনি পুনরায় দুই মামলার আসামি হন এবং তার পরিবার ও স্বজনদের সাথে নিয়ে কারাভোগ করেন। এরপর ২০২৩ সালেও লুৎফুজ্জামান বাবরের বাড়িতে ককটেল ও বিস্ফোরক মামলায় তাকে আসামি করা হয় এবং সেবারও তিনি কারাবরণ করেন।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে মিন্টু বলেন, “২০২৩ সালে দুঃসময়ে যখন আমি মদন উপজেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলাম, তখন সিনিয়র নেতারা আমাকে সাংগঠনিক পদে রাখার প্রস্তাব দেন। দলের স্বার্থে আমি তা মেনে নিলেও আজ পর্যন্ত তার কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি ঘটে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই। আওয়ামী লীগ ও পুলিশের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের ছোড়া গুলিতে আমার এক চোখ চিরতরে অন্ধ হয়ে যায় এবং অন্য চোখের দৃষ্টিশক্তি অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। বিদেশে গিয়েও চিকিৎসা নিয়েছি, কিন্তু দল আমাকে মূল্যায়ন করেনি।
নবগঠিত কমিটিকে সম্পূর্ণ অবৈধ ও অসাংগঠনিক আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, “ছাত্রদলের নিয়ম অনুযায়ী সিভি জমা নেওয়ার কথা থাকলেও, কোনো সিভি ছাড়াই হুট করে এই কমিটি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। যারা কখনো জেল খাটেনি, রাজপথে ঘাম ঝরায়নি, যাদের কোনো ছাত্রত্ব নেই, যারা বিবাহিত এবং যাদের সন্তান রয়েছে- তাদেরকে ‘মাই ম্যান’ হিসেবে কমিটিতে স্থান দেওয়া হয়েছে। আমরা এই বিদ্রোহী কমিটি মানি না ও তীব্র নিন্দা জানাই।”
মেহেদী হাসান মিন্টু বিএনপির শীর্ষ নেতা সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নেত্রকোনা ৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর এবং নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “আমাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট। বিবাহিত ও সন্তান আছে এমন অছাত্রদের নিয়ে গঠিত ঘোষিত নতুন কমিটি অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। যাদের ছাত্রত্ব আছে এবং দলের জন্য ত্যাগ রয়েছে, সরকারের আমলে জেল জুলুম কেটেছে তাদের নিয়ে দ্রুত নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। অন্যথায় তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা এই অবিচার মেনে নেবে না।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতারা বাংলাদেশ জিন্দাবাদ এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের স্লোগান দিয়ে তাদের প্রতিবাদ সমাপ্ত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী বলেন, আগে ছাত্রদলের কমিটিতে বিবাহিতদের স্থান ছিল না। পরবর্তীতে বিবাহের বিষয়টি রোহিতকরণের ফলে বিবাহিতরা স্থান পেতে কোন সমস্য নেই।
সংবাদ সম্মেলনে দৈনিক আমাদের সময় উপজেলা প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান, দৈনিক আমার বার্তা প্রতিনিধি শেখ আসাদুজ্জামান মাসুদ,দৈনিক প্রলয়ের রাজিব, জাতীয় দৈনিক ভোরের চেতনা উপজেলা প্রতিনিধি রফিক,সহ বাংলাদেশ প্রেসক্লাব মদন উপজেলা শাখার সকল সাংবাদিকবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
গত ৫ জুলাই নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনিক মাহবুব চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা শামীম স্বাক্ষরিত পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট করে মদন উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের আংশিক কমিটি ঘোষনা করা হয়। এতে মদন উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি হলেন শামীম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক সাইমন আকন্দ লিমন এবং পৌর কমিটিতে স্থান পান সভাপতি পদে মেহেদী হাসান ও সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল বারী হীরা।
মন্তব্য করুন