বারহাট্টায় গভীর রাতে ওষুধের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি
আজকের পত্রিকা
বারহাট্টায় গভীর রাতে ওষুধের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি
আজকের পত্রিকা
উন্নয়ন কাজে গফরগাঁও ও দক্ষিণ গফরগাঁওয়ের মানুষের কাছে অবহেলা দূর হচ্ছে : আখতারুজ্জামান বাচ্চু এমপি
অর্থনীতি
খালিয়াজুরীতে হাওড়ের পানিতে ডুবে দুই শিশুর করুণ মৃত্যু
আজকের পত্রিকা
র্যাব-১৫ ও র্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে চাঞ্চল্যকর হ*ত্যা মা*ম*লা*র ১নং আসামি গ্রেপ্তার
অন্যান্য
নিজস্ব সংবাদদাতা
থানা আছে যেই মৌজায়, উপজেলা চাই সেই মৌজায়’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে নবগঠিত দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা সদর দপ্তর উস্থি ইউনিয়নের নয়াবাড়ী মৌজার পরিবর্তে ৮টি ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থল ও বিদ্যমান পাগলা থানা সংলগ্ন ১৬৩ নং পাগলা মৌজায় স্থাপনের দাবিতে মানবেতর মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এই মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মশাখালী, পাঁচবাগ, উস্থি, লংগাইর, পাইথল, দত্তের বাজার, নিগুয়ারী ও টাঙ্গাব—এই আটটি ইউনিয়ন নিয়ে দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে গত ৮ জুলাই প্রকাশিত সরকারি গেজেটে উপজেলা সদর ভৌগোলিক প্রান্তিক এলাকায় অবস্থিত উস্থি ইউনিয়নের ১৪৩ নং নয়াবাড়ী মৌজায় নির্ধারণ করা হয়, যা স্থানীয় জনগণের জন্য অত্যন্ত ভোগান্তিকর।
বক্তারা অভিযোগ করেন, নয়াবাড়ী মৌজাটি গফরগাঁও ইউনিয়নের ঠিক পাশে এবং স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্যের বাড়ির কাছে হওয়ায় নিরপেক্ষ সিদ্ধান্ত হয়নি। অথচ ১৬৩ নং পাগলা মৌজা আটটি ইউনিয়নের তুলনামূলক মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। এছাড়া মাওনা-গফরগাঁও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত পাগলায় ইতোমধ্যে পাগলা থানা, হাসপাতাল, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন অবকাঠামো রয়েছে। এখানে উপজেলা সদর স্থাপিত হলে সরকারি সেবা গ্রহণ সহজ হওয়ার পাশাপাশি নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ব্যয়ও বিপুল পরিমাণে কমবে।
মানববন্ধনে জানানো হয়, এ সংক্রান্ত এক রিট পিটিশন (নং ৯৭৭৫/২০২৬) প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট বিভাগ ভৌগোলিক কেন্দ্রিকতা ও যোগাযোগের বিষয়গুলো বিবেচনা করার কথা উল্লেখ করে ১৪৩ নং নয়াবাড়ী মৌজায় পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বক্তারা আরও জানান, ১৯৯২ সালে পাগলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র স্থাপনের সময় স্থানীয় জনগণ ৩০১ শতাংশ জমি বিনামূল্যে দিয়েছিল। এবারও উপজেলা সদর স্থাপনের জন্য স্থানীয় জনগণ সরকারকে আরও ৫ থেকে ৬ একর জমি বিনামূল্যে দিতে এবং নিচু জমি ভরাট কাজে সহায়তা করতে প্রস্তুত। এতে সরকারের ভূমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়ন ব্যয় সাশ্রয় হবে।
এসময় আন্দোলনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ উল্লেখ করে তা প্রত্যাহার এবং কারাবন্দিদের মুক্তির দাবি জানান বক্তারা। স্থান নির্ধারণের আগে কোনো গণশুনানি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের মতামত গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
মানববন্ধনে উত্থাপিত প্রধান দাবিসমূহ:
১. উস্থি ইউনিয়নের নয়াবাড়ী মৌজায় উপজেলা সদর করার সিদ্ধান্ত বাতিল ও পুনর্বিবেচনা করা।
২. ৮টি ইউনিয়নের ভৌগোলিক কেন্দ্রস্থল ১৬৩ নং পাগলা মৌজায় উপজেলা সদর দপ্তর স্থাপন করা।
৩. মাওনা-গফরগাঁও আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পাগলা থানা সংলগ্ন স্থানকে উপজেলা কমপ্লেক্সের জন্য নির্ধারণ করা।
৪. স্থানীয় জনগণের ৫-৬ একর জমি বিনামূল্যে দেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করা।
৫. আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার ও আটক নেতাকর্মীদের মুক্তি প্রদান করা।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে উপস্থিত সর্বস্তরের জনগণ দ্রুত যৌক্তিক প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।