মোঃ জুনায়েদ
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
নেত্রকোনার মদনে ওমর শরীফ খান নামে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মদন পৌর শহরের জাহাঙ্গীরপুর সরকারি টি আমিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষক ওমর শরীফের নিয়োগের বৈধতা জানতে চেয়ে উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তারসহ ১৩ টি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চানগাঁও নাক বাড়ি গ্রামের ফজলুল হক (ফৌজদার মিয়া) বাদী হয়ে গত( ৫ জুলাই) তিনি বিভিন্ন দপ্তরে এ অভিযোগপত্র দায়ের করেন।এ অভিযোগে শিক্ষক উমর শরীফ বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত টিম গঠন করে তদন্তের প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।
জানা গেছে, সহকারী শিক্ষক ওমর শরীফ খান ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর জাহাঙ্গীরপুর সরকারি টি আমিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সমাজ বিজ্ঞান শাখায় সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ পান।একই বছরের (৫ নভেম্বর) যোগদান করেন শিক্ষক ওমর শরীফ।চাকুরীর অভিজ্ঞতার সনদ পত্রে উল্লেখ করেন ওমর শরীফ ১৯৯৪ সালের ১২ ডিসেম্বর থেকে ৮/১২/ ১৯৯৯ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ইকড়ছই জামেয়া ইসলামিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় অফিস সহকারী পদে অস্থায়ীভাবে চাকরি করেছেন।তার নিবন্ধন সনদে উল্লেখ রয়েছে ২০১০ সালের মদন জোবাইদা রহমান মহিলা কলেজে তার স্থায়ী বসত বাড়ি।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিস সূত্র জানায় যায়, রাজশাহী সেনানিবাস রেকর্ড উইং শাখার প্রত্যয়নপত্রে (সাদা কাগজে) দেখা যায়, শিক্ষক ওমর শরীফ খান ১৯৯৪ সালের ২৯ নভেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১৮ জানুয়ায়ি পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নং ৪০২০২৯৩ সৈনিক পদে কর্মরত ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামের বনবিভাগ থেকে এক গাড়ি ফার্নিচার কাট সরকারকে না জানিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসার কারণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত ১৪ বছর চাকরি চলমান অবস্থায় উপরে উল্লেখিত তথ্য সমস্ত ভূল দেখা যায়।
সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে কর্মরত ১৪ বছর চাকরি চলমান অবস্থায় উপরে উল্লেখিত যে তথ্য সমস্ত ভূল দেখা যায়। শিক্ষক ওমর শরীফের ভোটার তালিকায় ২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত পেশায় সে সরকারি চাকরিজীবী লেখা রয়েছে। কিন্তু ওমর শরীফ খান এসব তথ্য গোপন করে মদন সরকারি টি আমিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে কি চাকরি নেন এই প্রশ্ন জনগণের। একাধিক তথ্যে গরমিল থাকায় লিখিত অভিযোগ দেন স্থানীয় চানগাঁও নাক বাড়ি গ্রামের ফজলুল হক (ফৌজদার মিয়া) বাদী হয়ে।৫ জুলাই ২০২৬ শিক্ষক ওমর শরীফ এর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বারীকে তদন্তের প্রতিবেদন দিতে বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও নাদির হোসেন শামীম। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বারী তদন্ত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার জোসনাকে। একাডেমিক সুপারভাইজার জোসনা এ প্রতিনিধিকে জানান, শারীরিক অসুস্থতার কারণে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে আমার সময় লাগছে। টি আমিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি ২০১৮ সালে জাতীয়করণ করা হয়। শিক্ষক ওমর শরীফ খানের কাছে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে কেন অবসর নিলেন। স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছি । এবং কোনো অবসর ভাতা পান কি আপনি। তিনি বলেন, আমি কোন টাকা পয়সা উত্তোলন করিনি। বিদ্যালয় চাকরি নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনি সেনাবাহিনীর চাকরি তথ্য কেন গোপন করেছেন।তিনি বলেন,বিদ্যালয়টি বেসকারি থাকাকালীন বিধি অনুযায়ী নিয়োগ পেয়েছি। বেসরকারি চাকরি নিয়েছিলাম এখন সরকারি হয়েছে। জাহাঙ্গিপুর সরকারি টি আমিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রধান শিক্ষক হওয়ার আগেই ওমর শরীফ খান নিয়োগ পেয়েছেন।শুনেছি, তাঁর বিরুদ্ধে এর আগেও অভিযোগ হয়েছে,এখন ও একটি অভিযোগ দিয়েছেন ফৌজদার মিয়া বাদী হয়ে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও নাদির হোসেন শামীম বলেন, জাহাঙ্গীরপুর সরকারি টি আমিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ওমর শরীফের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন করে অনিয়মের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলমান আছে।
মন্তব্য করুন