এ,কে, এম, রুহুল আমিন স্টাফ রিপোর্টারঃ
পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আর নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে সুদূর সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন মোহাম্মদ আসাব উদ্দিন (৪০)। কিন্তু ভাগ্য তাঁর সহায় হয়নি। স্বপ্ন পূরণ তো দূরের কথা, দীর্ঘ ৩ মাস পর অবশেষে নিজের প্রিয় জন্মভূমিতে ফিরলেন কফিনে বন্দি নিথর লাশ হয়ে।
আজ ৩ জুলাই, রোজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২.৫০ মিনিটে সৌদি আরব থেকে আসাব উদ্দিনের মরদেহ বহনকারী বিমানটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণ করার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর আত্মীয়-স্বজনরা। পরে একটি লাশবাহী ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁর মরদেহ ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
নিহত আসাব উদ্দিন গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার অন্তর্গত পাঁচবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ লামকাইন (বেপারি বাড়ি) গ্রামের মৃত আলাল উদ্দিনের ছেলে।
৩ মাস পর কাটল আইনি জটিলতা
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন আসাব উদ্দিন। গত ২৮ মার্চ সৌদি আরবের নাজরান শহরে কাজ করার সময় হঠাৎ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে অন্ধকার নেমে আসে।
এদিকে, প্রবাসে মৃত্যুর পর বিভিন্ন আইনি জটিলতার কারণে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। দীর্ঘ তিন মাস ধরে চলে এই জটিলতা। পরবর্তীতে ঢাকা হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট বদরুল আলম (রুবেল), এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আজহারুল ইসলাম (তৌহিদ), স্থানীয় বিএনপি নেতা শাকিল আহমেদ (সজল) এবং মেহেদী হাসানের যৌথ ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়। তাঁদের অক্লান্ত সহযোগিতায় অবশেষে দীর্ঘ ৯০ দিন পর আজ তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হলো।
এলাকায় শোকের ছায়া, দিশেহারা পরিবার
আসাব উদ্দিনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের আহাজারি আর প্রতিবেশীদের চোখের জলে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ। পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের মাতম।
"পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষটাকে হারিয়ে আজ আমরা পুরোপুরি নিঃস্ব। দুইটা ছোট মেয়ে আর বৃদ্ধা মাকে নিয়ে এখন কীভাবে বাঁচব?" — কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলছিলেন নিহতের স্ত্রী।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন তাঁর বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তান চরম অসহায় ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। যে স্বপ্ন বুকে নিয়ে আসাব উদ্দিন প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন, তা আর পূরণ হলো না। এক বুক স্বপ্ন নিয়ে যাওয়া মানুষটি ফিরলেন কেবলই এক টুকরো লাশ হয়ে।