নিজেস্ব প্রতিবেদক ময়মনসিংহ
দীর্ঘ ২৯ বছরের আইনি লড়াই। ১৯৯৭ সালে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা জজ দ্বিতীয় আদালত এবং ২০০৩ সালে ঢাকা হাইকোর্ট থেকে পক্ষে রায় পাওয়ার দাবি করেছেন মোঃ গোলাম মোস্তফা। এরপরও জমি নিয়ে জটিলতার অবসান চান ময়মনসিংহের ভালুকার এই বাসিন্দা। বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও তাঁর ভোগান্তি শেষ হয়েছে কি না, তা নিয়ে রয়েছে প্রশ্ন।
জানা গেছে, ভালুকায় নিজের ক্রয়কৃত জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন মোঃ গোলাম মোস্তফা।
গোলাম মোস্তফার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত জেলা জজ দ্বিতীয় আদালতে মামলা নম্বর ১১-তে তিনি রায় পান। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে ঢাকা হাইকোর্টে মামলা নম্বর ৩০৬৫-তে তাঁর পক্ষে রায় আসে বলে তিনি দাবি করেন।
দীর্ঘ এই আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এত কিছুর পরও জমিসংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান ও শান্তিপূর্ণ ভোগদখল নিশ্চিত করা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।
এদিকে, জমিটির নামজারি ও জমা খারিজের বৈধতা নিয়ে ভালুকা ভূমি কার্যালয়েও আইনি প্রক্রিয়া চলে।
ভূমি কার্যালয়ের আদেশ অনুযায়ী, আবেদনকারী মোঃ শফিকুল ইসলাম জমিটির মালিকানা দাবি করে বিবাদীর নামে সম্পন্ন নামজারি ও জমা খারিজের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। আবেদনটি পর্যালোচনার পর সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, নথি ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিবাদীর নামে সম্পন্ন নামজারি ও জমা খারিজ সঠিক বলে আদেশ দেওয়া হয়।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিবাদী বৈধ সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে জমিটি অর্জন করেন এবং ওই দলিলের ভিত্তিতে তাঁর নামে নামজারি ও জমা খারিজ সম্পন্ন হয়। ফলে আবেদনকারীর দাবি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়নি।
তবে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদনে নালিশি জমিতে আবেদনকারী মোঃ শফিকুল ইসলামের দখল থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। তদন্তের সময় বিবাদী উপস্থিত না থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
ভালুকার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকবাল হোসেনের আদেশে রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর ১৫০ ধারায় দায়ের করা আবেদনটি নামঞ্জুর করে মামলাটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়। আদেশে নামজারি ও জমা খারিজের মামলা নম্বর ১২৩৬২(স্বত-৩)/২০২৫-২৬ উল্লেখ রয়েছে।
ভূমি কার্যালয়ের নথি অনুযায়ী, আদেশটি ২০ মে ২০২৬ তারিখে জারি করা হয়। তবে গোলাম মোস্তফার দেওয়া তথ্যে সর্বশেষ আদেশের তারিখ ২০ আগস্ট ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে। এ কারণে দুই তারিখের মধ্যে কোনটি প্রযোজ্য, তা মূল আদেশের কপি দেখে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের এই বিরোধের স্থায়ী নিষ্পত্তি, সংশ্লিষ্ট রায় ও ভূমি অফিসের আদেশের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং জমির অধিকার নিয়ে অনিশ্চয়তার অবসান চান গোলাম মোস্তফা।
মন্তব্য করুন