ময়মনসিংহ সিটিতে বিএনপির প্রভাবশালী একাদীক নেতা, এককে নির্ভার জামায়াত।
সারাদেশ
ময়মনসিংহ সিটিতে বিএনপির প্রভাবশালী একাদীক নেতা, এককে নির্ভার জামায়াত।
সারাদেশ
খাগড়াছড়িতে জমকালো আয়োজনে নাগরিক পরিষদের পরিচিতি সভা
আজকের পত্রিকা
সেলফ-সেন্সরশিপ: সাংবাদিক চুপ থাকলে ক্ষতিটা কার?
অন্যান্য
পূর্বধলায় কোরবানির হাটের ইজারা কেন্দ্র করে হামলা: জামায়াতের ২৫ নেতাকর্মী কারাগারে
অন্যান্য
এ কে এম রুহুল আমিন স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকা-ময়মনসিংহ রেলপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গফরগাঁও রেলওয়ে স্টেশনের মাস্টার আবু হানিফের বিরুদ্ধে রেলওয়ের সরকারি সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্যমতে, স্টেশন চত্বরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট থেকে তিনি নিয়মিত মাসিক মাসোহারা আদায় করছেন।
স্টেশন চত্বরে দীর্ঘদিন ধরে জীবিকা নির্বাহকারী ভাসমান ও স্থায়ী ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, প্রতি মাসে স্টেশন মাস্টারকে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। বাদ যান না স্টেশনের কোণে বসে কাজ করা ফুটপাতের ক্ষুদ্র জুতা সেলাইকারী(মুচি)রাও।ষএছাড়া অভিযোগ রয়েছে, আশপাশের দোকানপাট থেকে টাকা না দিয়েই জোরপূর্বক পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও মালামাল নিয়ে যান তিনি। কেউ অনিয়ম বা চাঁদার বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে তাকে স্টেশন এলাকা থেকে উচ্ছেদসহ নানা ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হয়।
স্থানীয় ভুক্তভোগী এক ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা দিন এনে দিন খাই। কষ্ট করে আয় করা টাকা থেকে যদি প্রতি মাসে এভাবে স্টেশন মাস্টারকে চাঁদা দিতে হয়, তবে আমরা চলব কীভাবে? প্রতিবাদ করলে সোজা বলে দেন—টাকা না দিলে এখানে কোনো দোকান থাকবে না।"
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্টেশন মাস্টার আবু হানিফার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এবারই প্রথম নয়। এর আগেও গফরগাঁও স্টেশনে কালোবাজারে টিকিট বিক্রি (টিকিট ব্লাকিং), সাধারণ যাত্রীদের হয়রানি এবং রেলওয়ের জমি অবৈধ দখলে মদদ দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এসব অপকর্ম চালিয়ে আসলেও কোনো দৃশ্যমান প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহল।
অভিযোগের বিষয়ে স্টেশন মাস্টার আবু হানিফার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।
তবে রেলওয়ের সরকারি সম্পদ রক্ষা, স্টেশন চত্বরে ফুটপাত ও দোকানদারদের ওপর থেকে চাঁদাবাজি বন্ধ এবং যাত্রীবান্ধব পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে এই দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন গফরগাঁওয়ের ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা।